"আমার ভাই এর রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি, আসুন মানবতার জন্য রক্ত দান করি "



সৃষ্টিকর্তার এক বিস্ময়কর দান ‘রক্ত’। মানুষের জীবন রক্ষায় রক্তের কোনো বিকল্প নেই। বেঁচে থাকার এ বিকল্পহীন একধরনের তরল যোজক কলা তৈরির মানব শরীর ব্যতীত দ্বিতীয় কোনো উৎসও নেই। ফলে অন্যের রক্তের ওপর নির্ভর করতে হয় কোটি কোটি মানুষকে।
বাংলাদেশে প্রতি বছর ১৩ লাখ ব্যাগ রক্তের প্রয়োজন হয়। এর মধ্যে রক্ত না পেয়ে মারা যান প্রায় ৫৫ হাজার মানুষ। প্রতিবছর সারা বিশ্বে ১১৮ কোটি ব্যাগ রক্তের প্রয়োজন হয়। এর মধ্যে দেড় লাখ নারীর মৃত্যু হয় রক্তের অভাবে। দুর্ঘটনাজনিত কারণে রক্তের অভাবে মারা যান প্রায় ৩০% মানুষ, যাদের মাঝে ৫-২৯ বছরের মানুষই বেশি।
প্রয়োজনীয় রক্তের ৩৫-৪০ ভাগ পাওয়া যায় রোগীর নিকটজন থেকে, ১৫-২০ ভাগ স্বেচ্ছাসেবী থেকে ও ১৫-২০ ভাগ পেশাদার রক্ত বিক্রেতা থেকে। বাকি ২০-২৫ ভাগ বা প্রায় ২.৫ লাখ ব্যাগ রক্তের ঘাটতি থেকে যায়।
অন্যদিকে পেশাদার বিক্রেতারা যে ১৫-২০ শতাংশ রক্তের যোগান দেন তা অনিরাপদ। ফলে ঘাটতি ও অনিরাপদ রক্তের পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় ৪০ শতাংশ বা প্রায় ৫ লাখ।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্যে বলা হয়েছে, উন্নত বিশ্বে ৪৫ ভাগ মানুষ স্বেচ্ছায় রক্ত দেন। আর বাংলাদেশের মত উন্নয়নশীল দেশগুলোতে প্রতি হাজারে মাত্র তিনজন রক্ত দেন। বাংলাদেশে রক্তের ঘাটতি পূরণ ও অনিরাপদ রক্তের ব্যবহার বন্ধ করতে বর্তমানের চেয়ে বছরে মাত্র ৫ লাখ ব্যাগ অতিরিক্ত সংগ্রহ করতে হবে। একজন সুস্থ ব্যক্তি বছরে তিন বার রক্ত দিতে পারেন। এ হিসাবে ১৬ কোটি মানুষের মধ্যে আর মাত্র ২ লাখ মানুষকে স্বেচ্ছাসেবী রক্তদাতা হিসেবে উদ্বুদ্ধ করতে পারলে এ সমস্যা সমাধান হতে পারে।
১৯৫২ সালের মায়ের ভাষা বাঁচাতে আমরা যেমন নিজের রক্ত দিয়েছিলাম। ঠিক তেমনি আজ নিজের রক্ত দিয়ে কি দেশের মানুষ কে বাঁচাতে পারিনা? 

চলুন এই ভাষার মাসে সকলে এক সাথে বলি, 
"আমার ভাই এর রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি, 
আসুন মানবতার জন্য রক্ত দান করি





No comments

Powered by Blogger.